✍️ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ভয়াবহ এক আত্মঘাতী হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর ১৩ সদস্য। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন সাধারণ মানুষ, যাদের মধ্যে রয়েছে দুই শিশু ও এক নারী। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি দিয়ে সেনাবাহিনীর কনভয় লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। সেনাবাহিনীর প্রথম সারির দল হামলাকারীকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলেও সে একটি গাড়িতে ধাক্কা মেরে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটায়। হামলার পরপরই সেনা অভিযান চালিয়ে ‘ফিতনা আল-খারিজ’ নামে ভারত-সমর্থিত একটি জঙ্গিগোষ্ঠীর ১৪ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় সামরিক বাহিনী। সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলা ছিল ভারতের ‘রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার’ অংশ এবং এর দায়ভার ভারত এড়াতে পারে না। তারা বলেছে, পাকিস্তানের জনগণ ও সেনাবাহিনী এই ধরনের ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী তৎপরতা সম্পূর্ণ নির্মূল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ঘটনার পর পেশোয়ার কর্পস সদর দপ্তরে যান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তিনি বলেন, পাকিস্তানি সেনারা অসীম সাহসিকতার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। যারা এই হামলা চালিয়েছে এবং যারা তাদের মদদ দিচ্ছে—তাদের কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, শুধু সেনাবাহিনী নয়, বেসামরিক নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখাওয়ার পুলিশ বাহিনীকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করার ওপর জোর দেন তিনি। এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। প্রেসিডেন্ট বলেন, শহীদ সেনারা জাতির প্রকৃত বীর, তাদের আত্মত্যাগ ভুলে যাওয়ার নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসীরা কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে, এবং জাতি তাদের সাহসী সন্তানদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে পাকিস্তানের এই অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওয়াজিরিস্তানে হামলার জন্য ভারতকে দায়ী করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তা তারা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।
-zerorumor/international


0 মন্তব্যসমূহ