চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে সামরিক ড্রোন এখন এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। রাশিয়া একদিকে যেমন নিজস্ব ড্রোন উৎপাদনে মনোযোগ বাড়াচ্ছে, তেমনি ইরান থেকেও বিপুল পরিমাণে ড্রোন সংগ্রহ করছে। অপরদিকে, ইউক্রেনকে আধুনিক ড্রোন সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা মিত্র রাষ্ট্রগুলো, যা রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবহার করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এমনকি রাশিয়ার ভেতরেও ড্রোন হামলার নজির রয়েছে।
সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ ও পশ্চিমা সামরিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, রাশিয়া আগামী ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যেই প্রতি রাতেই ২০০০ ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা নিয়েছে। জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ক্রিশ্চিয়ান ফ্রয়েডিং বলেন, “রাশিয়া তাদের শাহেদ ড্রোন উৎপাদনের ক্ষমতা আরও কয়েকগুণ বাড়াতে চাইছে। লক্ষ্য, যেকোনো মুহূর্তে একযোগে ২০০০ ড্রোন মোতায়ন।”
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার (ISW) জানায়, ২০২৪ সালের জুন ও জুলাই মাসে রাশিয়া শাহেদ সিরিজের ড্রোন ব্যবহারে ৩১ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে, রাশিয়া ২০২৫ সালের মধ্যেই রোজ ২০০০ ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। তবে, এত বিপুল সংখ্যক ড্রোন নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা বাস্তবসম্মত কিনা, সে নিয়েও সংশয় রয়েছে বিশ্লেষকদের।
উল্লেখ্য, শাহেদ সিরিজের ড্রোনগুলো মূলত ইরানি প্রযুক্তিভিত্তিক হলেও, ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়া নিজস্ব সংস্করণে এই ড্রোন তৈরি করছে। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, এই ড্রোন তৈরির জন্য রাশিয়া চীনা যন্ত্রাংশের উপর নির্ভর করছে।
আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ ইউক্রেনের সামনে
রাশিয়ার অব্যাহত ড্রোন হামলা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রবল চাপে ফেলেছে। বিশেষ করে ইরানি শাহেদ ড্রোনের মতো স্বল্পমূল্যের অস্ত্র ব্যবহারের বিপরীতে ইউক্রেনকে ব্যয়বহুল প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম ব্যবহার করতে হচ্ছে—যা এক অর্থনৈতিক অসম যুদ্ধের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
কারখানা সম্প্রসারণ ও উৎপাদন কেন্দ্র বৃদ্ধি
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়ার ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রগুলো, বিশেষ করে শাহেদ ড্রোন তৈরির কারখানাগুলোর আয়তন দ্বিগুণ করা হয়েছে। ইলাবুগা ও ইজেবস শহরে এই ধরনের ড্রোন কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। যদিও এসব কারখানায় ইউক্রেন আঘাত হানার চেষ্টা করেছে, তেমন উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ এখনো মেলেনি।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রাশিয়া যদি তাদের লক্ষ্য অনুযায়ী চলতি বছরের নভেম্বরে nightly ২০০০ ড্রোন হামলার ক্ষমতা অর্জন করে, তবে সেটি ইউক্রেনের জন্য এক ভয়াবহ কৌশলগত বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।


0 মন্তব্যসমূহ