মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পর্ক এখন ভাঙনের পথে। একসময় অবিচ্ছেদ্য এই যুগলের সম্পর্কচ্ছেদ নিয়ে চীনের সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে উত্তপ্ত আলোচনা। বেশিরভাগ চীনা নেটিজেনই মাস্কের পক্ষ নিয়েছেন।
সবশেষ উত্তেজনার জন্ম দিয়েছেন মাস্ক নিজেই। তিনি হুঁশিয়ার করেছেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন কর ও ব্যয় বিল পাস হলে তিনি “আমেরিকা পার্টি” নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন। মাস্ক বিলটিকে ‘উন্মাদনা’ বলে আখ্যা দেন। উল্লেখ্য, এই বিলটি সিনেট পাস করেছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রায় ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিল পাসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চীনের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ওয়েইবোতে ভাইরাল হয় #MuskWantsToBuildAnAmericaParty হ্যাশট্যাগটি, যা ইতোমধ্যে ৩ কোটি ৭০ লাখ বার দেখা হয়েছে।
চীনা নেটিজেনদের মন্তব্য:
“মাস্ক যদি রাজনৈতিক দল গঠন করেন, তাহলে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন চিন্তাধারা রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে।”
“ভাই মাস্ক, তোমার পাশে একশো কোটির বেশি মানুষ আছি আমরা।”
“প্রতিদিনই মাস্ক যেন কোটিপতিদের ঝগড়ার লাইভ স্ট্রিম দেখাচ্ছেন।”
চীনে মাস্ক অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত টেসলা একমাত্র পশ্চিমা বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্র্যান্ড, যা স্থানীয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সমানতালে প্রতিযোগিতা করছে। টেসলার সবচেয়ে বড় কারখানাটিও রয়েছে সাংহাইয়ে। চীনা প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং-এর সঙ্গে মাস্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং তাঁর মা মায়ে মাস্ক-এর জনপ্রিয়তাও চীনে মাস্কের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্পকে চীনে অনেকেই এক ‘অপ্রত্যাশিত রসবোধসম্পন্ন ব্যক্তি’ হিসেবে দেখেন। তবে তাঁর চীনবিরোধী বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কের কমতি নেই। কিছু ব্যবহারকারী ট্রাম্প-মাস্ক দ্বন্দ্বকে শিশুসুলভ বলেও উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল রাজনৈতিক আলোচনা চীনের সেন্সর নিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেটে অবাধে ছড়িয়ে পড়া এই ইঙ্গিত দেয় যে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের এই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে নিজেদের জন্য ক্ষতিকর মনে করছে না।
ZeroRumor-International


0 মন্তব্যসমূহ